দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট পশ্চিম রাশিয়ায় মোতায়েন শুরু করেছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ। ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তার দাবি, ইউনিটটিতে প্রায় ৯০ জন সদস্য থাকবে এবং তারা ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি উৎক্ষেপণযন্ত্র নিয়ে রাশিয়ার ভোরোনেজ অঞ্চলে অবস্থান করবে।
ইউক্রেনের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আন্দ্রি চেরনিয়াক বলেন, উত্তর কোরিয়ার ইউনিটটি রাশিয়ার ১১২তম ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিগেডের সঙ্গে ভোরোনেজ অঞ্চলে মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র অভিযানে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
চেরনিয়াকের দাবি, পিয়ংইয়ং ইতোমধ্যে ৪০টি নতুন কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট জনবল রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। আগামী মাসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মোতায়েনের চূড়ান্ত কাঠামো ও ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে রাশিয়া গত বছরের আগস্টের পর প্রথমবারের মতো ইউক্রেনে উত্তর কোরিয়ার দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এগুলো নতুন পাঠানো চালানের অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক রব লি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় দুর্বলতাগুলোর একটি। ফলে এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়লে কিয়েভের জন্য হুমকিও বাড়বে। তার মতে, শীতকালে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, কারণ এ সময় রাশিয়া বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলা চালাতে পারে।
তবে রয়টার্স ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। চেরনিয়াক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের সংবেদনশীলতার কারণে তিনি এর বিস্তারিত প্রকাশ করতে পারছেন না।
এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং নিউইয়র্কে জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার স্থায়ী মিশন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইউক্রেনের দাবি, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে দুই দেশ পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যে রাশিয়াকে লাখ লাখ গোলাবারুদ সরবরাহ করেছে এবং ২০২৪ সালে কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় অভিযানের জবাবে ১৪ হাজার সেনাও পাঠিয়েছে।
চেরনিয়াকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে ১৫০টি কেএন-২৩ ও কেএন-২৪ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছে। বর্তমানে কুরস্ক অঞ্চলে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ উত্তর কোরীয় সেনা থাকলেও তারা সরাসরি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না।
এদিকে গত মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেন, রাশিয়া আরও ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং ভোরোনেজ অঞ্চলে তাদের জন্য ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
/অ